শিলিগুড়ি: পাহাড় ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এবার চরম দুঃসংবাদ! বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া লাগাতার অতিভারী বর্ষণের জেরে ফের মারাত্মক ধস নামল শিলিগুড়ি-সিকিম যোগাযোগের একমাত্র ‘লাইফ লাইন’ ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে। বৃহস্পতিবার ভোরে সিংতাম ও রংপোর মাঝে বারডাং-এর কাছে পাহাড়ি রাস্তার এক বিশাল অংশ হুড়মুড় করে ধসে সটান তিস্তা নদীতে ভেসে গিয়েছে।
মুহূর্তে পুরো এলাকাটি বিশাল বিশাল পাথর, মাটি আর কাদায় ভরে গিয়ে এক ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে। এর ফলে সিকিম ও কালিম্পংগামী রাস্তায় সমস্ত রকম যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। মাঝরাস্তাতেই আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রীরা। খবর পেয়েই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রশাসনের আধিকারিক ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছেন। রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ শুরু হলেও লাগাতার বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা কার্যত চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে সিংটাম টানেল এলাকা, এটিটিসি কলেজ এবং ২০ মাইলের কাছাকাছি একাধিক রাস্তায় নতুন করে বড়সড় ধস নেমেছে। উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য এই ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, এই বিপর্যয় জনজীবনকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে তুলেছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিকিম প্রশাসনের তরফে শিলিগুড়ি বা রংপোগামী যাত্রীদের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই সড়কপথ সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার কড়া পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে পর্যটকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে গ্যাংটক বা শিলিগুড়ি যাতায়াতের জন্য তিনটি বিকল্প ঘুরপথের হদিশ দিয়েছে প্রশাসন। প্রথমটি হলো সিংটাম–সেন্ট্রাল পেন্ডাম–রংপো রোড, দ্বিতীয়টি সিংটাম–ডুগা–রংপো রোড এবং তৃতীয়টি রানিফুল–পকিয়ং–রোরাথাং–রংপো রোড। যদিও এই বিকল্প রাস্তাগুলিও কাদা ও পাথরে পিচ্ছিল হয়ে থাকায় চালকদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অবশেষে থানায় অরূপ বিশ্বাস, মেসি-কাণ্ডে তদন্তে নতুন মোড়
পাহাড়ে যখন এই হাহাকার, সমতলেও তখন স্বস্তির বদলে আশঙ্কার মেঘ। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে দুর্যোগের তীব্রতা আরও বাড়বে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে প্রায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত অতিভারী মেঘভাঙা বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কোচবিহারে সোমবার পর্যন্ত ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির জেরে ধস পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এমনকি মালদা এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সঙ্গে তীব্র বজ্রপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার পর্যন্ত জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে অতিভারী বৃষ্টির জেরে কমলা সতর্কতা জারি থাকায় পাহাড় ও ডুয়ার্স সংলগ্ন নদীগুলির জলস্তর আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন