Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ডিম-মাছের বদলে রাজমা-ডাল কেন? ইসকনের ভূমিকা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ মামলাকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৬
ডিম-মাছের বদলে রাজমা-ডাল কেন? ইসকনের ভূমিকা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ মামলাকারী
ছবি--প্রতীকী

কলকাতা পুর এলাকার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলে ডিম ও মাছের বদলে রাজমা-ডাল দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। শুধু খাবারের মেনু পরিবর্তনই নয়, মিড-ডে মিল পরিচালনার দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারী। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন পড়ুয়াদের পুষ্টির প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে বিপদের মুখে পড়তে পারেন হাজার হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা কর্মী।


শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র শুনানির আগে কিছুটা সময় চান। সেই আর্জি মেনে আদালত আগামী মঙ্গলবার মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। মামলাকারীর অভিযোগ, ডিম ও মাছের মতো উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবারের পরিবর্তে নিরামিষ মেনু চালু করার সিদ্ধান্তে শিশুদের সুষম পুষ্টি ব্যাহত হতে পারে। একইসঙ্গে, ইসকনের মতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার হাতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার ফলে এতদিন এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা কর্মী, রাঁধুনি, সহায়ক কর্মী এবং পরিবহণকর্মীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এই সিদ্ধান্তের পিছনে কোনও অস্বচ্ছতা বা অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখারও আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে।


উল্লেখ্য, চলতি বাজেটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের মাথাপিছু বরাদ্দ ৬ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। সেই সঙ্গেই ঘোষণা করা হয়, কলকাতা পুর এলাকার স্কুলগুলিতে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করবে ইসকন। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও জানান, ইসকন রান্না করা খাবারই পড়ুয়াদের দেওয়া হবে। এরপর থেকেই ডিম-মাছের বদলে নিরামিষ খাবার চালু হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়।


পুষ্টিবিদদের একাংশের মতে, ডিমে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি, কোলিন ও আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যদিও রাজমা বা অন্যান্য ডালজাতীয় খাবার থেকেও প্রোটিন পাওয়া যায়, তবে সেগুলি শিশুদের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে কতটা মানানসই, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অনেকের মতে, খাবার শুধু পুষ্টিকর হলেই হবে না, শিশুদের কাছে গ্রহণযোগ্যও হতে হবে। না হলে অপচয় বাড়বে এবং প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হবে না।

বিষয় : BengalPolitics ISKCON kolkatahighcourt middaymeal

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬


ডিম-মাছের বদলে রাজমা-ডাল কেন? ইসকনের ভূমিকা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ মামলাকারী

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬

featured Image
কলকাতা পুর এলাকার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলে ডিম ও মাছের বদলে রাজমা-ডাল দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। শুধু খাবারের মেনু পরিবর্তনই নয়, মিড-ডে মিল পরিচালনার দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারী। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন পড়ুয়াদের পুষ্টির প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে বিপদের মুখে পড়তে পারেন হাজার হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা কর্মী।শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র শুনানির আগে কিছুটা সময় চান। সেই আর্জি মেনে আদালত আগামী মঙ্গলবার মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। মামলাকারীর অভিযোগ, ডিম ও মাছের মতো উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবারের পরিবর্তে নিরামিষ মেনু চালু করার সিদ্ধান্তে শিশুদের সুষম পুষ্টি ব্যাহত হতে পারে। একইসঙ্গে, ইসকনের মতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার হাতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার ফলে এতদিন এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা কর্মী, রাঁধুনি, সহায়ক কর্মী এবং পরিবহণকর্মীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এই সিদ্ধান্তের পিছনে কোনও অস্বচ্ছতা বা অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখারও আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে।উল্লেখ্য, চলতি বাজেটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের মাথাপিছু বরাদ্দ ৬ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। সেই সঙ্গেই ঘোষণা করা হয়, কলকাতা পুর এলাকার স্কুলগুলিতে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করবে ইসকন। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও জানান, ইসকন রান্না করা খাবারই পড়ুয়াদের দেওয়া হবে। এরপর থেকেই ডিম-মাছের বদলে নিরামিষ খাবার চালু হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়।পুষ্টিবিদদের একাংশের মতে, ডিমে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি, কোলিন ও আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যদিও রাজমা বা অন্যান্য ডালজাতীয় খাবার থেকেও প্রোটিন পাওয়া যায়, তবে সেগুলি শিশুদের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে কতটা মানানসই, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অনেকের মতে, খাবার শুধু পুষ্টিকর হলেই হবে না, শিশুদের কাছে গ্রহণযোগ্যও হতে হবে। না হলে অপচয় বাড়বে এবং প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হবে না।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার