মালদা: জলযন্ত্রণা আর প্লাবনের বিভীষিকা কাটিয়ে অবশেষে আশার আলো দেখা যাচ্ছে গঙ্গাপাড়ের ভূতনিতে। গত কয়েক দিনের টানাটান অনিশ্চয়তা ভেঙে ভূতনির চরে ধীরে ধীরে নামছে জল। আর নদীর জল সরতেই উত্তর মালদার এই বানভাসি দ্বীপে ফিরতে শুরু করেছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের চিরচেনা ব্যস্ততা। মণ্ডপে মণ্ডপে বাঁশ বাঁধার ঠুকঠাক শব্দ আর মৃৎশিল্পীদের ঘরে একচালা প্রতিমার কাঠামোর গন্ধ জানান দিচ্ছে, কষ্ট যতই থাক, উমা আসছেই।
স্থানীয় সূত্রের খবর, গত সপ্তাহজুড়ে গঙ্গা ও ফুলহরের জলস্ফীতিতে ভূতনির একটা বড় অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। পুজোমণ্ডপ তো বটেই, এমনকি অনেক প্রতিমা শিল্পীর কর্মশালাতেও ঢুকে পড়েছিল জল। ফলে দুর্গাপুজো আদৌ কতটা ঘটা করে করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে চরম উদ্বেগে ছিলেন উদ্যোক্তারা। তবে গত দু’দিন ধরে জল দ্রুত কমতে শুরু করায় যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে এলাকা।
ভূতনির অন্যতম প্রাচীন ডোমনটোলা সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির কর্তারা জানালেন, মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেও মণ্ডপের মূল চত্বরে প্রায় হাঁটু জল জমে ছিল। প্রতিমার খড়-মাটির কাজ একচুলও এগোয়নি। কিন্তু জল কিছুটা নামতেই আর সময় নষ্ট করেননি তাঁরা। তড়িঘড়ি মৃৎশিল্পীদের ডেকে এনে প্রতিমা তৈরির কাজে গতি আনা হয়েছে। একইভাবে কাল বিলম্ব না করে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে দিয়েছে শঙ্করটোলা সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটিও। ক্লাবের এক কর্তার কথায়, “জল কমার প্রতীক্ষাতেই দিন গুনছিলাম। দেবী আসবেন, তাই কোনও খামতি রাখা যাবে না। সরকারি অনুদানের বিষয়েও আমরা আশাবাদী।”
বন্যায় বিপর্যস্ত ভূতনির পুজো উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। মানিকচকের বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল জানান, এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়েছে। দু’-এক দিনের মধ্যে মণ্ডপ প্রাঙ্গণগুলি সম্পূর্ণ শুষ্ক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিধায়কের আশ্বাস, “বন্যার কারণে কোনো পুজোমণ্ডপ বা মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সংস্কারে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। ভূতনিবাসী যাতে আনন্দের সঙ্গে পুজো কাটাতে পারেন, তার সবরকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
আপাতত বন্যার আতঙ্ক সরিয়ে রেখে ভূতনির মানুষ মেতে উঠেছেন প্রতিমার চোখ আঁকার আয়োজনে। কাঁশের বন না ফুটলেও, জল নামা কাদা মেখেই ভূতনিতে এখন ঢাকের বাদ্যি শোনার প্রহর গুনছে আপামর গ্রামবাসী।

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন