Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Super ElNino: ‘সুপার এল নিনো’র গ্রাসে বিশ্ব: সাড়ে ৪ লক্ষ মৃত্যুর আশঙ্কা, কেবল ভারতেই প্রাণ হারাতে পারেন প্রায় ১৬ হাজার মানুষ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Super ElNino: ‘সুপার এল নিনো’র গ্রাসে বিশ্ব: সাড়ে ৪ লক্ষ মৃত্যুর আশঙ্কা, কেবল ভারতেই প্রাণ হারাতে পারেন প্রায় ১৬ হাজার মানুষ!
প্রতীকী ছবি

কলকাতা: বিশ্ববাসীর জন্য অপেক্ষা করছে এক চরম বিপদের দিন। ভয়াবহ ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে বিশ্বজুড়ে নেমে আসতে চলেছে এক অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক বিপর্যয়। সম্প্রতি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব'-এর এক চাঞ্চল্যকর গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, এই অতি-উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ মানুষের অকালমৃত্যু হতে পারে। আর এই তালিকায় সবচেয়ে করুণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারত। দেশের সাধারণ মৃত্যুর হারের তুলনায় কেবল গ্রীষ্মের মারাত্মক দাবদাহে প্রাণ হারাতে পারেন প্রায় ১৫,৮০০ জন মানুষ।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে জন্ম নিয়েছে এই ‘সুপার এল নিনো’, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এই ধ্বংসলীলা শুরু হয়ে যাবে এবং গ্রীষ্মকাল আসার সাথে সাথে তা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে সমগ্র পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা এমনিতেই স্বাভাবিকের চেয়ে ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকবে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে কেবল বর্তমান আবহাওয়ার পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না; তাঁদের মতে, এই অতি-উষ্ণতা আসলে আগামী ২০ বছর পর পৃথিবীর জলবায়ু ঠিক কতটা রূপ ধারণ করতে চলেছে, তারই এক ভয়াবহ পূর্ব মহড়া। ভারত ছাড়াও পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তেও এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে। আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে প্রায় ৬৬,৮০০ মানুষের মৃত্যুর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কেবল নাইজেরিয়াতেই মারা যেতে পারেন ৩১,৪০০ জন। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ১৯,৪০০, ইন্দোনেশিয়ায় ১৯,৩০০ এবং ব্রাজিলে ১৩,৩০০ অতিরিক্ত প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে গবেষকরা আশার আলোও দেখিয়েছেন। সময় থাকতে সঠিক ও জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। এর জন্য দ্রুত তাপপ্রবাহের আগাম পূর্বাভাস ব্যবস্থা জোরদার করা, সাধারণ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত কুলিং সেন্টার তৈরি, খোলা রোদে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর দৌড়গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রকৃতির এই চরম বার্তা যদি মানবজাতি এখনই অনুধাবন না করে, তবে আগামী দিনের সঙ্কট সামলানো একপ্রকার অসম্ভব হয়ে উঠবে।


বিষয় : HiddenStoriesNews SuperElNino ClimateEmergency GlobalWarming HeatwaveWarning IndiaClimateAlert WeatherExtreme ClimateChangeReal

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Super ElNino: ‘সুপার এল নিনো’র গ্রাসে বিশ্ব: সাড়ে ৪ লক্ষ মৃত্যুর আশঙ্কা, কেবল ভারতেই প্রাণ হারাতে পারেন প্রায় ১৬ হাজার মানুষ!

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কলকাতা: বিশ্ববাসীর জন্য অপেক্ষা করছে এক চরম বিপদের দিন। ভয়াবহ ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে বিশ্বজুড়ে নেমে আসতে চলেছে এক অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক বিপর্যয়। সম্প্রতি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব'-এর এক চাঞ্চল্যকর গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, এই অতি-উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ মানুষের অকালমৃত্যু হতে পারে। আর এই তালিকায় সবচেয়ে করুণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারত। দেশের সাধারণ মৃত্যুর হারের তুলনায় কেবল গ্রীষ্মের মারাত্মক দাবদাহে প্রাণ হারাতে পারেন প্রায় ১৫,৮০০ জন মানুষ।বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে জন্ম নিয়েছে এই ‘সুপার এল নিনো’, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এই ধ্বংসলীলা শুরু হয়ে যাবে এবং গ্রীষ্মকাল আসার সাথে সাথে তা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে সমগ্র পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা এমনিতেই স্বাভাবিকের চেয়ে ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকবে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে কেবল বর্তমান আবহাওয়ার পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না; তাঁদের মতে, এই অতি-উষ্ণতা আসলে আগামী ২০ বছর পর পৃথিবীর জলবায়ু ঠিক কতটা রূপ ধারণ করতে চলেছে, তারই এক ভয়াবহ পূর্ব মহড়া। ভারত ছাড়াও পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তেও এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে। আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে প্রায় ৬৬,৮০০ মানুষের মৃত্যুর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কেবল নাইজেরিয়াতেই মারা যেতে পারেন ৩১,৪০০ জন। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ১৯,৪০০, ইন্দোনেশিয়ায় ১৯,৩০০ এবং ব্রাজিলে ১৩,৩০০ অতিরিক্ত প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।তবে গবেষকরা আশার আলোও দেখিয়েছেন। সময় থাকতে সঠিক ও জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। এর জন্য দ্রুত তাপপ্রবাহের আগাম পূর্বাভাস ব্যবস্থা জোরদার করা, সাধারণ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত কুলিং সেন্টার তৈরি, খোলা রোদে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর দৌড়গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রকৃতির এই চরম বার্তা যদি মানবজাতি এখনই অনুধাবন না করে, তবে আগামী দিনের সঙ্কট সামলানো একপ্রকার অসম্ভব হয়ে উঠবে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত