কলকাতা: শালবনি জমি দুর্নীতি-সহ একাধিক বেআইনি লেনদেনের তদন্তে এবার সরাসরি দুর্নীতির প্রধান ডেরায় হানা দিল পুলিশ। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধৃত আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে কালীঘাটে অভিষেকের বাসভবনে এক নজিরবিহীন তল্লাশি অভিযান চালাল পুলিশ ও তদন্তকারী আধিকারিকেরা।
বিশাল অঙ্কের আর্থিক কেলেঙ্কারির পুনর্নির্মাণের (Reconstruction) লক্ষ্যেই মঙ্গলবার দুপুর প্রায় দেড়টা নাগাদ সুমিতকে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে কালীঘাটের ওই বাড়িতে নিয়ে যান সিআইডি ও পুলিশের বিশেষ তদন্তকারীরা। বাড়িটি চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে সাংসদের আপ্তসহায়ককে ঘরের প্রতিটি কোণায় কোণায় নিয়ে গিয়ে টানা জেরা করা হয়।
উল্লেখ্য, শালবনির বহু কোটি টাকার খাস ও সরকারি জমি বেআইনিভাবে ভুয়ো নথি বানিয়ে হস্তান্তরের অভিযোগ-সহ একাধিক আর্থিক দুর্নীতির মামলায় সিআইডি দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিল সুমিত রায়কে। প্রায় ৯ থেকে ১০ বার সিআইডির তলব এড়ানোর পর, চলতি মাসের ১০ সেপ্টেম্বর অভিষেকের এই কালীঘাটের বাড়ি থেকেই সিআইডি ও এসটিএফের যৌথ হানায় গ্রেফতার হন সুমিত।
আদালতে পেশ করে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পর দফায় দফায় জেরায় একাধিক বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসে। তদন্তকারীদের কড়া প্রশ্নের মুখে পড়ে সুমিত জেরায় স্পষ্ট দাবি করেন, সাংসদ অভিষেকের প্রতি পদক্ষেপ এবং যাবতীয় বেআইনি কাজের খুঁটিনাটি তাঁর নখদর্পণে। পুলিশ সূত্রে খবর, সুমিত স্বীকার করেছেন যে কালীঘাটের এই নির্দিষ্ট বাড়িতেই বসে পরিচালিত হতো কোটি কোটি টাকার যাবতীয় অনৈতিক লেনদেন ও হাওয়ালা কারবার।
সুমিতের বিরুদ্ধে মূলত শালবনিতে কয়েকশো একর সরকারি জমির চরিত্র বদলে কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি, ভুয়ো মালিকানা তৈরি, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকদের নামাঙ্কিত জাল রাবার স্ট্যাম্প ব্যবহার করা এবং অবৈধ উপায়ে বিপুল অর্থ সংগ্রহের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিষেকের হাত ধরে এই সমস্ত দুর্নীতির প্রতিটির সঙ্গেই সুমিত ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগপত্র তৈরি করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
মঙ্গলবার সুমিতের সেই স্বীকারোক্তির পরেই তাঁকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। কীভাবে টাকা আসত, কার কার হাত ঘুরে এই লেনদেন হতো এবং কোথায় সেই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি রাখা হতো—সবটাই সুমিতকে সামনে রেখে মিলিয়ে নেন তদন্তকারীরা।
পুরো বাড়ি ঘুরে তল্লাশির পাশাপাশি বিভিন্ন কক্ষের ভিডিওগ্রাফিও করা হয়েছে বলে খবর। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কালীঘাটের খাস বাসভবনে সুমিতকে নিয়ে পুলিশের এই ‘ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশন’ শাসক দলের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল।
Leave a comment