কলকাতা: ধনতেরাস ও বিয়ের মরশুমের ঠিক প্রাক্কালে সোনা ও রুপোর বাজারে হুড়মুড়িয়ে দাম নামায় হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। শুক্রবার বেলা পৌনে বারোটায় মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দর কমে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৪১ হাজার ৯৭৯ টাকায়, যা গত দিনের তুলনায় প্রায় ০.৪৩ শতাংশ কম। পাশাপাশি, রুপোর বাজারে ধাক্কা লেগেছে আরও অনেক বেশি। প্রায় ১.৮৮ শতাংশ দরপতন হয়ে প্রতি কেজি রুপোর দাম এসে ঠেকেছে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ৯০০ টাকায়। তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন যে, এমসিএক্সের এই পাইকারি দরের সঙ্গে গয়নার দোকানের চূড়ান্ত বিলের অঙ্ক কখনোই মেলে না, কারণ এর সঙ্গে যুক্ত হয় জিএসটি, বিশুদ্ধতা ও মেকিং চার্জ। তা সত্ত্বেও একটানা চড়া দামের বাজারে এই পতনে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সাধারণ মানুষ।
হঠাৎ কেন এই দরপতন? বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ করে আমেরিকার ফেডেরাল রিজার্ভের সুদের হারের নীতি সোনার বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফের সুদ বাড়াতে পারে এমন জল্পনা তৈরি হওয়ায় এই মূল্যবান ধাতুর ওপর বিনিয়োগের চাপ কিছুটা কমেছে। সোনা নিজে থেকে কোনো সুদ দেয় না, তাই বাজারের সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা অন্য লাভজনক ক্ষেত্রে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি, অপরিশোধিত তেলের চড়া দামও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাক বাড়িয়ে তুলেছে, যার পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে বুলিয়ন মার্কেটে। তবে কি পতন এখানেই থামবে, নাকি আরও নিচে নামবে সোনা? বাজার বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সোনার দাম ১ লক্ষ ৪০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৪১ হাজার টাকার স্তরে ঘোরাফেরা করছে। যদি বিক্রির চাপ বজায় থাকে, তবে আগামী দিনে তা ১ লক্ষ ৩৭ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকার ঘরেও নেমে যেতে পারে। অন্যদিকে, রুপোর দাম আরও কিছুটা কমে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই মুহূর্তে যাঁদের বাড়িতে বিয়ে বা উৎসবের কেনাকাটা রয়েছে, তাঁরা কি সোনা-রুপো কিনে ফেলবেন, নাকি আরও পতনের অপেক্ষায় বসে থাকবেন? বিশ্লেষকদের মতে, যাঁরা বিনিয়োগের কথা ভাবছেন, তাঁরা বাজারের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি এবং নির্দিষ্ট সাপোর্ট লেভেলগুলোর ওপর নজর রাখতে পারেন। তবে যাঁদের বিয়ের মতো অনিবার্য সামাজিক অনুষ্ঠান রয়েছে, তাঁরা বাজারের দীর্ঘমেয়াদি ওঠানামার অপেক্ষায় না থেকে স্থানীয় বাজারের মজুরি ও পাকা বিলের হিসাব কষে ধাপে ধাপে কেনাকাটা সেরে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করছেন। স্বল্পমেয়াদি এই দুর্বলতা দীর্ঘমেয়াদে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে কি না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।
Leave a comment