ভ্যাটিকান সিটি: বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে গড়ে উঠল এক নজিরবিহীন ও রোমাঞ্চকর ঘটনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে (US Midterm Election) নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন খোদ ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ চতুর্দশ লিও। ভ্যাটিকানের প্রেস অফিস সূত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার সুবাদে পোপ শিকাগোর শহরতলি নিউ লিনক্স কেন্দ্রে ডাকযোগে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। কোনো পোপের এভাবে রাষ্ট্রপ্রধান বাছাই বা গণতান্ত্রিক নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসে এই প্রথম। পোপের এই অভাবনীয় পদক্ষেপের পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে প্রচণ্ড তোলপাড়।
ভ্যাটিকানের তরফে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, বিশ্বের যেকোনো দায়িত্বশীল নাগরিকের মতোই পোপও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও নাগরিক কর্তব্যের ওপর গভীরভাবে বিশ্বাস রাখেন। ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ মাইকেল ওয়ালস জানিয়েছেন, এর আগে ইতিহাসের কোনো পোপ গণতান্ত্রিক কোনো দেশের সাধারণ নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি। তবে চার্চ সূত্রে জানা গিয়েছে, পোপ চতুর্দশ লিও তাঁর জন্মসূত্রে পাওয়া আসল নাম ‘রবার্ট ফ্রান্সিস প্রিভোস্ট’ হিসেবে ডাকযোগে এই ভোটটি দিয়েছেন। এর আগে পেরুতে দীর্ঘ দুই দশক মিশনারি যাজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময়েও সেখানকার স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিনিয়ত ভোট দিতেন তিনি।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভ্যাটিকানের পোপের মধ্যে আদর্শগত সংঘাত বহুদিনের। বিশেষ করে অভিবাসন নীতি থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি— একাধিক স্পর্শকাতর বিষয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পোপ। ফলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় পর্বের মার্কিন প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ‘মিডটার্ম’ নির্বাচনে পোপের ভোটদান নিঃসন্দেহে এক তাৎপর্যপূর্ণ মাত্রা যোগ করল। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য ফলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল। তবে এবার পোপের এমন অভূতপূর্ব অংশগ্রহণের পর মার্কিন রাজনীতির এই মহাসংগ্রামের ফলাফল কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই আপাতত তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।
Leave a comment