লুধিয়ানা: বিদেশ থেকে দেশে ফেরার আনন্দ মিলিয়ে যেতে না যেতেই পঞ্জাবের লুধিয়ানায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা নৃশংস হত্যাকাণ্ড। অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফেরার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্ত্রীকে এলোপাথাড়ি ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে! অভিযুক্তের নাম রবীন্দর সিংহ এবং নিহতের নাম কমলদীপ কৌর (৪৯)। ঘটনাটি ঘটেছে লুধিয়ানার পাখোয়াল রোডের বিকাশনগর এলাকায়। এই রোমহর্ষক ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী রবীন্দরকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত গোটা এলাকাবাসী।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত রবীন্দর ও তাঁর স্ত্রী কমলদীপ বিগত ছ’মাস ধরে অস্ট্রেলিয়াতেই বসবাস করছিলেন। গত শুক্রবারই তাঁরা পঞ্জাবে তাঁদের নিজেদের বাড়িতে ফেরেন। দম্পতির ছেলে গগনদীপ সেদিন নিজে অমৃতসর বিমানবন্দরে গিয়ে বাবা-মাকে সসম্মানে বাড়ি নিয়ে আসেন। প্রথম দিন সব কিছু স্বাভাবিক মনে হলেও, শনিবার বিকেল গড়াতেই শুরু হয় রোমহর্ষক ছক। অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই ছেলেকে একটা কাজের অজুহাতে বাড়ির বাইরে পাঠিয়ে দেন রবীন্দর। বাড়ি সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রীর উপর চড়াও হন এবং এলোপাথাড়ি কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করেন।
আরও পড়ুন: বিধানসভায় শৌচালয় থেকে উদ্ধার ক্যান্টিন কর্মীর রহস্যমৃত্যু! সোমবারের সকালে তীব্র চাঞ্চল্য
বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ গগনদীপ বাড়ি ফিরে এসে দেখেন, মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে তাঁর মায়ের নিথর দেহ। মায়ের শরীরে অসংখ্য মারাত্মক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন দেখে তিনি চিৎকার করে ওঠেন। ছেলের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশী এক মহিলা। তিনি গগনদীপের মুখের করুণ আর্জি ও ঘরের দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান এবং দ্রুত স্থানীয় থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে নিথর দেহটি উদ্ধার করে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্ত্রীর পরকীয়া বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে তীব্র সন্দেহ করতেন রবীন্দর। সেই চরম সন্দেহের বশবর্তী হয়েই তিনি স্ত্রীকে খুন করেন বলে প্রাথমিক ধারণা তদন্তকারীদের। খুনের পর তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টায় অভিযুক্ত রক্তমাখা অস্ত্রটি জল দিয়ে ধুয়ে বাড়িতেই লুকিয়ে রেখেছিলেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই সেই ঘাতক ছুরিটি উদ্ধার করেছে। দম্পতির মধ্যে পুরনো অন্য কোনো পারিবারিক বিবাদ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
Leave a comment