কলকাতা: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্য রাজনীতির জল ইতিমধ্যেই ঘোলাটে। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতার হওয়ার পর এ বার তদন্তের জাল আরও চওড়া করল কলকাতা পুলিশ। এ বার সরাসরি পুলিশের নজরে প্রাক্তন মন্ত্রীর কন্যা। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক বিপুল টাকার লেনদেনের প্রমাণ মিলতেই তাঁকে লালবাজারে তলব করা হয়েছে। সোমবার লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্নীতির এই চক্রে তাঁর ভূমিকা ঠিক কতটা, কিংবা অ্যাকাউন্টে আসা অর্থের প্রকৃত উৎস কী— তা বিশদে জানতেই তাঁকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে।
দুর্গাপুজোর কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় পুলিশ আগেই গ্রেফতার করেছে চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। মামলার এফআইআরে নাম রয়েছে ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেনেরও, যদিও তিনি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন সুরক্ষিত করেছেন। কিন্তু ইন্দ্রনীলের জামিনের আর্জি হাইকোর্ট খারিজ করে দেওয়ার পরেই তৎপর হয়ে লালবাজার পুলিশ গত ২৮ অক্টোবর ইডি দফতর থেকে বেরোনোর মুখে তাঁকে গ্রেফতার করে। এর আগে কসবার বাড়ি ও সিঙ্গুরের বাগানবাড়িতেও জোরকদম তল্লাশি চালায় তদন্তকারী দল।
আরও পড়ুন: বিধানসভায় শৌচালয় থেকে উদ্ধার ক্যান্টিন কর্মীর রহস্যমৃত্যু! সোমবারের সকালে তীব্র চাঞ্চল্য
তদন্তকারীদের সূত্রের খবর, ‘মাস আর্ট’ নামে একটি বেআইনি সংস্থার মাধ্যমে কলকাতার দুর্গাপুজোর ভিআইপি পাস ও প্রিভিউ শোয়ের টিকিট চড়া দামে বিক্রি করে কাটমানি তোলা হতো। ইউনেস্কোর হেরিটেজ তকমার নাম বেআইনিভাবে ব্যবহার করে পুজোপ্রেমীদের প্রতারণা করা হতো বলে মারাত্মক অভিযোগ। অথচ ইউনেস্কোর সাথে এই সংক্রান্ত কোনো বাণিজ্যিক চুক্তির অস্তিত্বই ছিল না। এই সংস্থার সাথে যুক্ত ছিলেন মধুছন্দা সেনও। পরবর্তীকালে এই পাস বিক্রির মোটা অংকের টাকা ঘুরপথে প্রাক্তন মন্ত্রীর কন্যার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও ঢুকেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
বৌবাজার থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই মামলার আর্থিক লেনদেনের অংশটি আলাদাভাবে তদন্ত করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আদালতের নির্দেশ মেনে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে হলেও, পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্টে টাকার আদান-প্রদান সামনে আসায় চরম বিপাকে প্রাক্তন মন্ত্রীর পরিবার। লালবাজারে ইন্দ্রনীল-কন্যার হাজিরা নিয়ে বর্তমানে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।
Leave a comment