কলকাতা: দুর্গাপুজো শেষ হয়েছে বেশিদিন হয়নি। অথচ মনে হচ্ছে, ছুটিটা যেন চোখের পলকেই শেষ হয়ে গেল! আবার সেই অফিস, পড়াশোনা, কাজের চাপ আর রোজকার একঘেয়ে রুটিন। সামনে কালীপুজো থাকলেও তার আগে কয়েকটা দিন যেন কিছুতেই কাটতে চাইছে না।
সত্যি বলতে, এই সময়টায় অনেকেরই আর বই খুলতে বা অফিসে যেতে মন বসে না। একটু বাইরে বেরোতে ইচ্ছে করে, কোথাও বসে চা খেতে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে কিংবা পরিবারের সঙ্গে একটু সময় কাটাতে ইচ্ছে করে।
কিন্তু সমস্যা একটাই! দুর্গাপুজোর লম্বা ছুটির পর আবার নতুন করে ছুটি চাওয়াটাও বেশ চাপের। তাই বলে কি ঘোরাঘুরি বন্ধ থাকবে?
একেবারেই নয়! কারণ নভেম্বরের এই সময়টা ছোট্ট একটা পিকনিকের জন্য বেশ ভালো। শীতের আমেজ সবে শুরু হয়েছে। এখনও জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়েনি। সকালে হালকা ঠান্ডা, দুপুরে মিঠে রোদ আর বিকেলে মনোরম আবহাওয়া। সব মিলিয়ে একদিনের জন্য শহরের বাইরে বেরিয়ে পড়ার দারুণ সুযোগ। তাই বেশি দূরে যাওয়ার পরিকল্পনা না করে কলকাতার কাছাকাছি কয়েকটি জায়গা বেছে নিতে পারেন। হাতে একদিন বা বড়জোর দু’দিন থাকলেই ঘুরে আসতে পারবেন।
১. দেউলটি:
শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে, প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটাতে চাইলে দেউলটি বেশ ভালো জায়গা। রূপনারায়ণ নদীর ধারে বসে সময় কাটানো, চারপাশের সবুজ পরিবেশ উপভোগ করা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা—সবই করতে পারবেন এখানে।
এখানে এলে ঘুরে দেখতে পারেন সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি ‘সমতাবেড়’। পুরনো দিনের বাড়ি, গ্রামের পরিবেশ আর নদীর হাওয়া—সব মিলিয়ে একদিনের জন্য মন ভালো করার মতো জায়গা। তবে এখানে বড় দলের রান্নাবান্না করে পিকনিক করার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা সব জায়গায় নেই। তাই ছোট দল নিয়ে ঘুরতে যাওয়াই ভালো।
২. গাদিয়াড়া:
যাঁরা নদীর ধারে বসে সময় কাটাতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য রয়েছে গাদিয়াড়া। এখানে এসে দেখতে পাবেন হুগলি, দামোদর ও রূপনারায়ণ নদীর মিলনস্থল।
নদীর বিস্তীর্ণ জলরাশি, নৌকা চলাচল আর খোলা আকাশ, সব মিলিয়ে জায়গাটার পরিবেশ বেশ সুন্দর। চাইলে নৌকায় ঘুরতে পারেন, নদীর ধারে বসে সময় কাটাতে পারেন। কাছেই রয়েছে ঐতিহাসিক ফোর্ট মর্নিংটনের ধ্বংসাবশেষ।
বিশেষ করে বিকেলের দিকে নদীর পাড়ে বসে সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতাটা বেশ ভালো লাগবে। পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে একদিনের বেড়ানোর জন্য গাদিয়াড়া রাখতে পারেন তালিকায়:
একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা চাইলে চলে যেতে পারেন টাকি। ইছামতী নদীর পাড়ে অবস্থিত এই ছোট্ট শহরটি শীতকালে বেড়ানোর জন্য বেশ জনপ্রিয়।
এখানকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ইছামতী নদী। নদীর ওপার থেকেই দেখা যায় বাংলাদেশের ভূখণ্ড। চাইলে নৌকায় ঘুরতে পারেন। তবে নৌকায় ওঠার আগে স্থানীয় নিয়ম ও অনুমতি সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি।
এছাড়াও রয়েছে টাকি ইকো পার্ক, পুরনো জমিদারবাড়ি, জোড়া শিব মন্দির এবং কুলেশ্বরী কালীমন্দির। অর্থাৎ শুধু পিকনিক নয়, ঘোরাঘুরি আর ছবি তোলারও বেশ ভালো সুযোগ রয়েছে এখানে।
৪. বাওয়ালি:
যাঁরা একটু অন্যরকম পরিবেশে সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য রয়েছে বাওয়ালি। কলকাতার কাছেই এই জায়গায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাওয়ালি রাজবাড়ি।
পুরনো রাজবাড়ির স্থাপত্য, বিশাল উঠোন, প্রাচীন দিনের সাজসজ্জা আর চারপাশের শান্ত পরিবেশ—সব মিলিয়ে এখানে গেলে মনে হবে যেন কয়েক ঘণ্টার জন্য অন্য কোনও সময়ে চলে গিয়েছেন।
এখানে রাজবাড়ি ঘুরে দেখা, আশপাশের গ্রামীণ পরিবেশ উপভোগ করা কিংবা নিরিবিলিতে খাওয়াদাওয়া করে সময় কাটাতে পারেন। তবে রাজবাড়িতে প্রবেশ, খাবার বা ডে-আউটের জন্য আগে থেকে বুকিং ও অনুমতির বিষয়টি জেনে নেওয়া ভালো।
৫. পিয়ালি আইল্যান্ড:
শহরের ব্যস্ততা থেকে সত্যিই একটু দূরে যেতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন পিয়ালি আইল্যান্ড থেকে।
সুন্দরবনের প্রবেশপথের কাছাকাছি এই জায়গায় রয়েছে নদী, সবুজ গাছপালা আর শান্ত পরিবেশ। শীতের সময় বিভিন্ন পাখির দেখা মেলার সম্ভাবনাও থাকে। চাইলে নৌকায় ঘুরতে পারেন কিংবা চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।
যাঁরা খুব বেশি হইচই পছন্দ করেন না, বরং একটু শান্ত পরিবেশে পরিবার বা কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য পিয়ালি বেশ ভালো বিকল্প হতে পারে।
Leave a comment