হায়দরাবাদ: অফিস ক্যাবের ভেতরেই এক বিমানসেবিকাকে ভয়ংকর কায়দায় ধর্ষণের অভিযোগ উঠল খোদ ক্যাব চালকের বিরুদ্ধে! আর এই শিহরণ জাগানো ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে খাস হায়দরাবাদে। গত সোমবার রাতের এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র শিউরে ওঠার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক পুলিশ দ্রুত তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার রাত প্রায় ৩টে নাগাদ এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। ওই তরুণী বিমানসেবিকা শামশাবাদ থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি ক্যাবে উঠেছিলেন। সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার তরফ থেকেই তাঁর যাতায়াতের জন্য ওই ক্যাবটি নির্দিষ্ট করে বুক করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, গন্তব্যে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই চালক নির্ধারিত রুট বদল করে গাড়িটিকে একটি সম্পূর্ণ নির্জন রাস্তার দিকে ঘুরিয়ে নেয়। এহেন আচরণ দেখে বিমানসেবিকা তীব্র আপত্তি জানালে চালক মিথ্যে অজুহাত দিয়ে বলে যে, শৌচালয়ে যাওয়ার জন্যই সে গাড়িটি ওই অন্ধকার রাস্তায় নিয়ে এসেছে। কিন্তু গাড়ি থেকে ফিরে আসার পরেই আসল রূপ ধারণ করে ওই লম্পট চালক। অভিযোগ, গাড়ির অন্দরেই তরুণীর ওপর চড়াও হয়ে তাঁকে brutally ধর্ষণ করে সে।
এই চরম নির্যাতনের মুখেও মানসিক স্থৈর্য হারাননি ওই যুবতী। অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তিনি অভিযুক্তকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ঠেলে সরিয়ে ক্যাবের দরজা খুলে পালিয়ে যান এবং রাস্তায় নেমে চিৎকার করে সাহায্যের আর্জি জানান। তাঁর চিৎকারেই আশেপাশের লোকজন ও পুলিশ সতর্ক হয়ে যায়। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গে তদন্তে নামে পুলিশ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট কঠোর ধারায় একটি মামলা রুজু করে অভিযুক্ত চালককে পাকড়াও করে। তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, আটকের পর লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে নিয়েছে ওই যুবক। এরপর ধৃতকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে সরাসরি বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই জঘন্য ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বিমান সংস্থাগুলি মহিলা কর্মীদের যাতায়াত এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকা বা প্রোটোকল আরও কড়াভাবে পর্যালোচনা করার জন্য বিশেষ আর্জি জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন