মল্লারপুর: সন্ধ্যের আড্ডায় ফুচকা খাওয়ার আনন্দ যে এমন ভয়ঙ্কর বিষাদ ডেকে আনবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি কেউ! বিষাক্ত ফুচকা খেয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো এক কিশোরীর এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করছেন এলাকার আরও ২০ থেকে ২৫ জন বাসিন্দা। বীরভূমের মল্লারপুর থানার দক্ষিণ গ্রাম মোড় এলাকার এই হাড়হিম করা ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার সকালে রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ওই কিশোরী। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফ থেকে তড়িঘড়ি একটি বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে, যারা রবিবারই গ্রামে পৌঁছে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরীর নাম হাসিনা খাতুন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মল্লারপুরের দক্ষিণ গ্রাম মোড়ে সিএসপি ব্যাঙ্কের কাছের একটি দোকান থেকে পরিবারের এক সদস্য ১০০ টাকার ফুচকা কিনে বাড়িতে আনেন। পরিবারের সবাই মিলে আনন্দ করে সেই ফুচকা খাওয়ার প্রায় ২ ঘণ্টা পর থেকেই দেখা দেয় চরম বিপত্তি। একে একে সকলের তীব্র পেটব্যথা, বমি এবং মারাত্মক ডায়রিয়া শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁদের উদ্ধার করে রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি; রবিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় হাসিনা। পরিবারের অন্যান্যদের পাশাপাশি একই দোকানের ফুচকা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন গ্রামের আরও একাধিক বাসিন্দা, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
এই মর্মান্তিক পরিণতি ও বিষক্রিয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা মল্লারপুর জুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঠিক কী কারণে এমন বিষক্রিয়া ঘটল—জল নাকি ফুচকার মশলা বা টকজলে কোনো বিষাক্ত উপাদান ছিল—তা খতিয়ে দেখছেন স্বাস্থ্যদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা। খাদ্যের নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি মল্লারপুর থানার পুলিশও ঘটনার সমান্তরাল তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত ফুচকা বিক্রেতার ভূমিকা এবং খাবারের গুণমান খতিয়ে দেখতে যৌথ অভিযানে নেমেছে পুলিশ ও স্বাস্থ্য প্রশাসন।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন