কলকাতা: ২৬-এর বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে ভাঙন ধরেছিল, তা কি এবার চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে? শনিবার কালীঘাটে এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ ডঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ফার্টিলিটি ক্লিনিকে গিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী ডঃ শশী পাঁজার সাক্ষাৎ সেই রাজনৈতিক জল্পনাকেই আগুনে ঘৃতাহুতির মতো আরও উসকে দিল। কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রীর বাসভবনের কাছেই অবস্থিত কাকলির সেই চেম্বারে আচমকাই হাজির হন শশী। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ‘মহিলা ব্রিগেড’-এর এই দুই হেভিওয়েট নেত্রীর একান্ত সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
উল্লেখ্য, একসময়ে ঘাসফুল শিবিরের শক্তিশালী মহিলা চতুর্ভুজ হিসেবে পরিচিত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং শশী পাঁজা। তবে বিধানসভা নির্বাচনের পর একে একে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়তে শুরু করেন তাঁরা। বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার যোগ দেন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে, যেখানে তিনি বর্তমানে লোকসভার মুখ্য সচেতক। অন্যদিকে, চন্দ্রিমা ও কৃষ্ণা ভিড়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল’ তৃণমূল শিবিরে। কেবল শ্যামপুকুর কেন্দ্র থেকে পরাজয়ের পর একেবারে অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন শশী পাঁজা। মাঝে শোনা গিয়েছিল তিনি অন্ধ্রে নিজের মাতৃভূমে ফিরে গিয়েছেন, তবে আগস্টের শুরুতেই আচমকা প্রকাশ্যে এসে কাকলির দরবারে তাঁর এই উপস্থিতি নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যদিও এই বৈঠক প্রসঙ্গে শশী পাঁজা দাবি করেছেন যে নিছকই ব্যক্তিগত কারণে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন, কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তা মেনে নিতে নারাজ। রাজনীতিতে দুই চিকিৎসক-নেত্রীর এই গোপন বৈঠককে দলবদলের জমি প্রস্তুত করার কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, চন্দ্রিমা-কৃষ্ণা-কাকলির পর এবার কি তবে শশী পাঁজাও নতুন কোনো শিবিরে পা বাড়িয়ে মমতার ঐতিহাসিক মহিলা ব্রিগেডকে পুরোপুরি ধুলিসাৎ করে দিতে চলেছেন? উত্তর মিলবে আগামী দিনেই।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন