কলকাতা: একসময় যা ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র, সেই বাইপাস সংলগ্ন ‘তৃণমূল ভবন’ এবার কার্যত ইতিহাস হতে চলেছে। দলের ভাঙন, সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত জটিলতার আবহে ধাপে ধাপে খালি করা হচ্ছে বহুল আলোচিত এই কার্যালয়। প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে কলকাতায় কালীঘাটের দলীয় কার্যালয় ছাড়া তৃণমূলের আর কোনও বড় কেন্দ্রীয় অফিস থাকবে না বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
মঙ্গলবার থেকে ভবনের চার ও পাঁচতলা খালি করার কাজ শুরু হয়। সরিয়ে নেওয়া হয় দলীয় ব্যানার, পোস্টার, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী। বাড়ির মালিক মন্টু সাহার পরিবার নিজে উপস্থিত থেকে এই প্রক্রিয়ার তদারকি করেন। পরিবার সূত্রে দাবি, মূল চুক্তি অনুযায়ী প্রথম তিনটি তলা ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও দীর্ঘদিন ধরেই উপরের তলাগুলিতেও দলীয় কার্যক্রম চলছিল।
৫৫ বছর ধরে জ্বলছে ‘নরকের দরজা’!
২০২২ সালে মেট্রোপলিটন বাইপাসের ধারে অবস্থিত এই বহুতল ভবনটিকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের আধুনিক সদর দপ্তর হিসেবে গড়ে তোলে। ওই বছরের মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে অফিসটির উদ্বোধন করেন। অত্যাধুনিক পরিকাঠামো, বৈঠকখানা, লিফট, সিসিটিভি এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সাজানো এই ভবনকে অনেকেই তৃণমূলের ‘কর্পোরেট কমান্ড সেন্টার’ বলে উল্লেখ করতেন।
তবে ভবনের দখল নিয়ে এখন ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। মালিকপক্ষের বক্তব্য, ভাড়ার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কয়েক মাস অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল দলকে। সেই সময়সীমাও পেরিয়ে যাওয়ায় বাড়ির অধিকার ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের একাংশের দাবি, ভাড়ার চুক্তি এখনও কার্যকর রয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভাড়াও পরিশোধ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন