Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

পদ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মোহভঙ্গ! তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন খড়্গপুরের প্রদীপ, শুভেন্দুর প্রশংসায় পদ্মবনে যাওয়ার ইঙ্গিত?

পদ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মোহভঙ্গ! তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন খড়্গপুরের প্রদীপ, শুভেন্দুর প্রশংসায় পদ্মবনে যাওয়ার ইঙ্গিত?
প্রতীকী ছবি

খড়্গপুর: বাংলার রাজনীতিতে দলবদলের খেলা যেন কিছুতেই থামছে না! ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি তৃণমূলের পক্ষ থেকে নতুন এবং বড় সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে, কিন্তু সব কিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে খড়্গপুরে ঘাসফুল শিবিরে বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটালেন বর্ষীয়ান নেতা প্রদীপ সরকার। খড়্গপুর সদরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বর্তমান কাউন্সিলর প্রদীপবাবু বুধবার আচমকাই তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করে দিলেন। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি এবার বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন খড়্গপুরের এই দাপুটে নেতা? যদিও এখনই নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে খোলসা করতে চাননি তিনি।


ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার, যখন তৃণমূল নেতৃত্বের তরফ থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নতুন কমিটিতে প্রদীপ সরকারকে জেলা সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বুধবারই সকলকে চমকে দিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে চিঠি পাঠিয়ে দল থেকে অব্যাহতি চান তিনি। চিঠিতে ব্যক্তিগত কারণের কথা উল্লেখ করে প্রদীপবাবু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দল তাঁকে যে পদ দিয়েছে তা তিনি গ্রহণ করছেন না। তবে দল ছাড়লেও খড়্গপুর পুরসভার কাউন্সিলর পদ থেকে এখনই ইস্তফা দিচ্ছেন না তিনি। তাঁর সাফ কথা, আপাতত তিনি একজন সাধারণ নাগরিক ও কাউন্সিলর হিসেবেই খড়্গপুরের মানুষের পরিষেবা দিয়ে যাবেন।


একটা সময় খড়্গপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলানো প্রদীপ সরকারকে ২০২৬ সালের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনেও খড়্গপুর সদর আসন থেকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বিজেপির দিলীপ ঘোষের কাছে তাঁকে পরাজিত হতে হয়। স্থানীয় সূত্রের খবর, নির্বাচনের পর থেকেই নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়েছিলেন প্রদীপবাবু, দলের কর্মসূচিতেও তাঁকে সেভাবে সক্রিয় থাকতে দেখা যাচ্ছিল না। সম্প্রতি তৃণমূল তাদের সমস্ত কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে জেলা কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করতেই প্রদীপকে বড় পদ দেওয়া হয়, কিন্তু সেই পদ পাওয়ার মাত্র একদিনের মধ্যেই দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।


দল ছাড়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই যখন চারদিকে শোরগোল, ঠিক তখনই প্রদীপ সরকারের মুখে শোনা গেল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা, যা তাঁর পদ্মশিবিরে যাওয়ার জল্পনাকে ১০০ গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রদীপবাবু প্রকাশ্যেই বলেন, মেদিনীপুর থেকে বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, এবং তিনি যে সমস্ত উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়েছেন তাতে মেদিনীপুরের বাসিন্দা হিসেবে তিনি অত্যন্ত গর্বিত। শুধু শুভেন্দুবাবুই নন, খড়্গপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের কাজেরও প্রশংসা শোনা গেছে তাঁর মুখে। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রদীপ সরকার জানান, পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ফলে তিনি বিজেপিতে যাচ্ছেন নাকি অন্য কোনো পথ বেছে নেবেন, তা নিয়ে এই মুহূর্তে মেদিনীপুরের রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়ে গিয়েছে।

বিষয় : BJPWestBengal politicaltwist triinamoolcongress kharagpurpolitics

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


পদ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মোহভঙ্গ! তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন খড়্গপুরের প্রদীপ, শুভেন্দুর প্রশংসায় পদ্মবনে যাওয়ার ইঙ্গিত?

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image
খড়্গপুর: বাংলার রাজনীতিতে দলবদলের খেলা যেন কিছুতেই থামছে না! ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি তৃণমূলের পক্ষ থেকে নতুন এবং বড় সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে, কিন্তু সব কিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে খড়্গপুরে ঘাসফুল শিবিরে বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটালেন বর্ষীয়ান নেতা প্রদীপ সরকার। খড়্গপুর সদরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বর্তমান কাউন্সিলর প্রদীপবাবু বুধবার আচমকাই তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করে দিলেন। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি এবার বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন খড়্গপুরের এই দাপুটে নেতা? যদিও এখনই নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে খোলসা করতে চাননি তিনি।ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার, যখন তৃণমূল নেতৃত্বের তরফ থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নতুন কমিটিতে প্রদীপ সরকারকে জেলা সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বুধবারই সকলকে চমকে দিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে চিঠি পাঠিয়ে দল থেকে অব্যাহতি চান তিনি। চিঠিতে ব্যক্তিগত কারণের কথা উল্লেখ করে প্রদীপবাবু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দল তাঁকে যে পদ দিয়েছে তা তিনি গ্রহণ করছেন না। তবে দল ছাড়লেও খড়্গপুর পুরসভার কাউন্সিলর পদ থেকে এখনই ইস্তফা দিচ্ছেন না তিনি। তাঁর সাফ কথা, আপাতত তিনি একজন সাধারণ নাগরিক ও কাউন্সিলর হিসেবেই খড়্গপুরের মানুষের পরিষেবা দিয়ে যাবেন।একটা সময় খড়্গপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলানো প্রদীপ সরকারকে ২০২৬ সালের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনেও খড়্গপুর সদর আসন থেকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বিজেপির দিলীপ ঘোষের কাছে তাঁকে পরাজিত হতে হয়। স্থানীয় সূত্রের খবর, নির্বাচনের পর থেকেই নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়েছিলেন প্রদীপবাবু, দলের কর্মসূচিতেও তাঁকে সেভাবে সক্রিয় থাকতে দেখা যাচ্ছিল না। সম্প্রতি তৃণমূল তাদের সমস্ত কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে জেলা কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করতেই প্রদীপকে বড় পদ দেওয়া হয়, কিন্তু সেই পদ পাওয়ার মাত্র একদিনের মধ্যেই দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।দল ছাড়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই যখন চারদিকে শোরগোল, ঠিক তখনই প্রদীপ সরকারের মুখে শোনা গেল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা, যা তাঁর পদ্মশিবিরে যাওয়ার জল্পনাকে ১০০ গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রদীপবাবু প্রকাশ্যেই বলেন, মেদিনীপুর থেকে বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, এবং তিনি যে সমস্ত উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়েছেন তাতে মেদিনীপুরের বাসিন্দা হিসেবে তিনি অত্যন্ত গর্বিত। শুধু শুভেন্দুবাবুই নন, খড়্গপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের কাজেরও প্রশংসা শোনা গেছে তাঁর মুখে। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রদীপ সরকার জানান, পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ফলে তিনি বিজেপিতে যাচ্ছেন নাকি অন্য কোনো পথ বেছে নেবেন, তা নিয়ে এই মুহূর্তে মেদিনীপুরের রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়ে গিয়েছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার