নয়াদিল্লি: মৃত্যুর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে, চিকিৎসকেরা একপ্রকার হাত তুলে দিয়ে জানিয়েছেন যে কোনও মুহূর্তে বিকল হয়ে যেতে পারে শরীরের একাধিক প্রধান অঙ্গ। কিন্তু যমরাজকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেও বিন্দুমাত্র টলানো যাচ্ছে না তাঁর ইস্পাতকঠিন জেদকে। দিল্লির যন্তরমন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা-সহ পাঁচ দফা দাবিতে আমরণ অনশনে বসা প্রখ্যাত সমাজকর্মী ও পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন এবার এক হাড়হিম করা মোড় নিল। দেখতে দেখতে তাঁর অনশন আজ ২০ দিনে পা দিয়েছে। শরীর সম্পূর্ণ ভগ্ন, মেদ ও পেশির চরম ক্ষয় হয়েছে, এমনকি কথা বলার শক্তিটুকুও হারিয়েছেন তিনি। কিন্তু অনশনের ২০তম দিনে দাঁড়িয়ে মোদী সরকারের ঘুম উড়িয়ে সোনম ওয়াংচুক স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “যেভাবেই হোক আমি ২০ জুলাই পর্যন্ত বেঁচে থাকতে চাই। যাতে আপনাদের সকলের সঙ্গে সংসদ পর্যন্ত অভিযানে শামিল হতে পারি। তারপরও যদি আমরা সাফল্য না পাই, তাহলে ভূত হয়ে ফিরে আসব।”
আসলে আগামী ২০ জুলাই সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের এই মেগা আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। সোনম তাঁর এই জরাজীর্ণ শরীর নিয়েই সেই ঐতিহাসিক অভিযানে অংশ নিতে মরিয়া। কিন্তু তাঁর বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি দেখে সমর্থকদের মনে এখন একটাই তীব্র আশঙ্কা— আর মাত্র তিনটে দিন তিনি বেঁচে থাকবেন তো? এই চরম উৎকণ্ঠার মাঝেই আন্দোলনের সুর চড়িয়ে সোনম বার্তা দিয়েছেন, “আমাকে বাইরে থেকে দুর্বল মনে হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু আমি ভিতর থেকে অত্যন্ত শক্ত। আপনারা তো ভিতর এবং বাইরে দু’দিক থেকেই শক্তিশালী। সেই শক্তিই এবার কাজে লাগবে। আমরা সবাই একসঙ্গে গিয়ে গণতন্ত্রের মন্দিরে নিজেদের দাবি আদায়ে কথা বলব।”
শুরুর দিকে সোনম ওয়াংচুকের এই অনশন আন্দোলনকে খুব একটা গুরুত্ব না দেওয়া হলেও, দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে তাঁর প্রতি জনসমর্থন উপচে পড়ছে। দেশের প্রায় সবকটি বড় বিরোধী দলও এই প্রবীণ সমাজকর্মীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই সংগীন যে, খোদ দিল্লি হাই কোর্ট কেন্দ্র সরকারকে কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, “দেশের সব নাগরিকের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। তাই ওয়াংচুকের অনশন ভাঙাতে অবিলম্বে যা করার করতে হবে।” কিন্তু আদালতের এত বড় বার্তার পরও কেন্দ্র সেভাবে কোনও হস্তক্ষেপ করেনি। কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে মোদী সরকার। আর সরকারের এই উদাসীনতার মাঝেই নিজের জীবন বাজি রেখে কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর অধিকার রক্ষায় ‘ভূত’ হয়ে ফিরে আসার এই হাড়হিম করা হুঁশিয়ারি এখন তোলপাড় ফেলছে গোটা দেশের রাজনীতিতে।

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন