Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

‘বাড়ির চারপাশে ঘুরে লাভ নেই, বিব্রত করবেন না!’—তৃণমূল কর্মীদের কড়া বার্তা দিয়ে নেটপাড়ায় ভাইরাল বিজেপি নেতা!

‘বাড়ির চারপাশে ঘুরে লাভ নেই, বিব্রত করবেন না!’—তৃণমূল কর্মীদের কড়া বার্তা দিয়ে নেটপাড়ায় ভাইরাল বিজেপি নেতা!
ছবি সংগৃহীত

বর্ধমান: রাজ্যে নজিরবিহীন রাজনৈতিক পালাবদলের পর দলবদল আর রাজনৈতিক সমীকরণ পুনর্গঠনের জল্পনায় যখন ফুটছে বাংলা, ঠিক তখনই বর্ধমান শহরে দেখা গেল এক বেনজির ও চোখ কপালে তোলার মতো দৃশ্য। কোনও দলীয় কার্যালয় নয়, খোদ নিজের বাসভবনের মেইন গেটেই ‘তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের প্রবেশ নিষেধ’ সম্বলিত এক বিশাল ব্যানার টাঙিয়ে দিলেন এক হেভিওয়েট বিজেপি নেতা। 

সাংবাদিক সম্মেলনে বিস্ফোরক অধীর চৌধুরী


তাতে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে— তৃণমূলের কোনও নেতা বা কর্মীর জায়গা বিজেপিতে নেই, তাই তাঁরা যেন কোনওরকম অনুরোধ বা তদ্বির নিয়ে তাঁর বাড়ির দোরগোড়ায় না আসেন এবং অনর্থক ঘোরাঘুরি করে তাঁকে বিব্রত না করেন। বর্ধমান শহরের শাঁকারিপুকুর এলাকার একটি জনবহুল আবাসিক এলাকায় এক বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে এমন রাজনৈতিক বার্তাবাহী ব্যানারকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক তরজা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।


খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, এই অভিনব কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন বিজেপির ৪ নম্বর নগর মণ্ডলের সহ-সভাপতি মানস কুমার দে। নিজের এই চরম সিদ্ধান্তের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে মানসবাবু দাবি করেছেন, রাজ্যে ৪ মে ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়ার পর থেকেই নাকি সকাল-বিকেল বহু তৃণমূল কর্মী ও সমর্থক নানা ব্যক্তিগত অনুরোধ এবং বিজেপিতে যোগ দেওয়ার তদ্বির নিয়ে তাঁর বাড়িতে ভিড় করছেন। সেই উপদ্রব সামাল দিতেই দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় তিনি এই ব্যানার লাগাতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর সাফ কথা, "দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে বিজেপির ঝান্ডা ধরছি। অতীতে আমাদের কর্মীদের তৃণমূলের হাতে একাধিক প্রতিকূল ও অত্যাচারী পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। এখন রাজ্যে ক্ষমতার মৌসম বদলাতেই সুবিধাবাদীরা যোগাযোগ করছেন। কিন্তু যাঁদের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ স্পষ্ট রায় দিয়েছেন, তাঁদের দলে নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের নির্দেশ মেনেই আমি এই কড়া অবস্থান নিয়েছি।" ইতিমধ্যেই এই ব্যানারের ছবি সামাজিক মাধ্যমে হুহু করে ছড়িয়ে পড়েছে।


এদিকে, এই পোস্টার-বিতর্ক সামনে আসতেই পাল্টা আসরে নেমেছে ঘাসফুল শিবির। এই গোটা ঘটনাটিকে সস্তা রাজনৈতিক প্রচারের নোংরা কৌশল বলেই ব্যাখ্যা করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা দেবু টুডুর পালটা অভিযোগ, "রাজ্যে ক্ষমতার বদল হওয়ার পর থেকে বিজেপিই আমাদের সাধারণ কর্মীদের ওপর নানাভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। ভয় দেখিয়ে, কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও পুলিশের জুজু দেখিয়ে দলবদলের নোংরা চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আর এখন সাধু সাজার জন্য এই ধরনের নাটকীয় পোস্টার লাগিয়ে সস্তা রাজনৈতিক প্রচার করার অপচেষ্টা চলছে।" রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ব্যানার কেবল শাঁকারিপুকুর নয়, বরং রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের ভবিষ্যৎ এবং দলবদলের চোরাস্রোতকে এক নতুন বিতর্কের চাদরে মুড়ে দিল।

বিষয় : TMCVSBJP SuvenduAdhikari politicaldrama BARDHAMANPOLITICS defectioncontroversy

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


‘বাড়ির চারপাশে ঘুরে লাভ নেই, বিব্রত করবেন না!’—তৃণমূল কর্মীদের কড়া বার্তা দিয়ে নেটপাড়ায় ভাইরাল বিজেপি নেতা!

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image
বর্ধমান: রাজ্যে নজিরবিহীন রাজনৈতিক পালাবদলের পর দলবদল আর রাজনৈতিক সমীকরণ পুনর্গঠনের জল্পনায় যখন ফুটছে বাংলা, ঠিক তখনই বর্ধমান শহরে দেখা গেল এক বেনজির ও চোখ কপালে তোলার মতো দৃশ্য। কোনও দলীয় কার্যালয় নয়, খোদ নিজের বাসভবনের মেইন গেটেই ‘তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের প্রবেশ নিষেধ’ সম্বলিত এক বিশাল ব্যানার টাঙিয়ে দিলেন এক হেভিওয়েট বিজেপি নেতা। সাংবাদিক সম্মেলনে বিস্ফোরক অধীর চৌধুরীতাতে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে— তৃণমূলের কোনও নেতা বা কর্মীর জায়গা বিজেপিতে নেই, তাই তাঁরা যেন কোনওরকম অনুরোধ বা তদ্বির নিয়ে তাঁর বাড়ির দোরগোড়ায় না আসেন এবং অনর্থক ঘোরাঘুরি করে তাঁকে বিব্রত না করেন। বর্ধমান শহরের শাঁকারিপুকুর এলাকার একটি জনবহুল আবাসিক এলাকায় এক বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে এমন রাজনৈতিক বার্তাবাহী ব্যানারকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক তরজা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, এই অভিনব কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন বিজেপির ৪ নম্বর নগর মণ্ডলের সহ-সভাপতি মানস কুমার দে। নিজের এই চরম সিদ্ধান্তের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে মানসবাবু দাবি করেছেন, রাজ্যে ৪ মে ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়ার পর থেকেই নাকি সকাল-বিকেল বহু তৃণমূল কর্মী ও সমর্থক নানা ব্যক্তিগত অনুরোধ এবং বিজেপিতে যোগ দেওয়ার তদ্বির নিয়ে তাঁর বাড়িতে ভিড় করছেন। সেই উপদ্রব সামাল দিতেই দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় তিনি এই ব্যানার লাগাতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর সাফ কথা, "দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে বিজেপির ঝান্ডা ধরছি। অতীতে আমাদের কর্মীদের তৃণমূলের হাতে একাধিক প্রতিকূল ও অত্যাচারী পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। এখন রাজ্যে ক্ষমতার মৌসম বদলাতেই সুবিধাবাদীরা যোগাযোগ করছেন। কিন্তু যাঁদের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ স্পষ্ট রায় দিয়েছেন, তাঁদের দলে নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের নির্দেশ মেনেই আমি এই কড়া অবস্থান নিয়েছি।" ইতিমধ্যেই এই ব্যানারের ছবি সামাজিক মাধ্যমে হুহু করে ছড়িয়ে পড়েছে।এদিকে, এই পোস্টার-বিতর্ক সামনে আসতেই পাল্টা আসরে নেমেছে ঘাসফুল শিবির। এই গোটা ঘটনাটিকে সস্তা রাজনৈতিক প্রচারের নোংরা কৌশল বলেই ব্যাখ্যা করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা দেবু টুডুর পালটা অভিযোগ, "রাজ্যে ক্ষমতার বদল হওয়ার পর থেকে বিজেপিই আমাদের সাধারণ কর্মীদের ওপর নানাভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। ভয় দেখিয়ে, কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও পুলিশের জুজু দেখিয়ে দলবদলের নোংরা চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আর এখন সাধু সাজার জন্য এই ধরনের নাটকীয় পোস্টার লাগিয়ে সস্তা রাজনৈতিক প্রচার করার অপচেষ্টা চলছে।" রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ব্যানার কেবল শাঁকারিপুকুর নয়, বরং রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের ভবিষ্যৎ এবং দলবদলের চোরাস্রোতকে এক নতুন বিতর্কের চাদরে মুড়ে দিল।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার