কলকাতা: দুর্গাপুজো মিটতেই রাজ্যে শীতের আমেজ পড়তে শুরু করেছে। ভোরের দিকে কুয়াশা আর ঠাণ্ডা হাওয়া জানান দিচ্ছে, বঙ্গে শীত পড়তে খুব বেশি দেরি নেই। আর শীতকাল বলতেই বাড়ির ছাদ, বাগান জুড়ে রঙিন ফুলের সমাহার। পাশাপাশি টাটকা শাকসব্জি ফলানোর জন্যও এই সময়টা বেশ উপযোগী। তবে বাগান সাজানোর পরিকল্পনা থাকলে তার প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করতে হবে। কোন কোন গাছ বসাবেন, কীভাবে মাটি তৈরি করবেন আর কীভাবে যত্ন নেবেন গাছের? জানুন সহজ কিছু টিপস।
শীতের মরশুমে নানা ধরনের শাকসব্জি ফলানো যায়। শাকের মধ্যে বেছে নিতে পারেন লালশাক, পালংশাক ও কলমিশাক। এছাড়া টবে বেগুন, টমেটো, ঢ্যাঁড়শ, মুলো, গাজর, বিটরুট, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি, ক্যাপসিকামের মতো সব্জিও চাষ করা সম্ভব। যাঁরা লতানো গাছ লাগাতে চান, তাঁরা শিম, লাউ ও বরবটির মতো সব্জি বেছে নিতে পারেন।
সব্জির গাছ বসানোর জন্য ১২ থেকে ১৫ ইঞ্চির টব, পুরনো বালতি কিংবা জিও ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। গাছের বৃদ্ধির জন্য লাগবে সমপরিমাণ দোআঁশ মাটি, জৈব সার ও বেলে মাটি। এগুলি ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। যেখানে দিনে অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা সরাসরি রোদ পৌঁছয়, এমন জায়গায় গাছ রাখুন।
শীতের বাগান মানেই সব্জির পাশাপাশি নানা রঙের ফুলের সমাহার। তাই এই সময় চন্দ্রমল্লিকা, কসমস, জিনিয়া, ডালিয়া, সূর্যমুখী, পিটুনিয়া, ডায়ান্থাস, দোপাটি, জারবেরা ও অ্যাস্টারের মতো ফুলের গাছ লাগাতে পারেন। নার্সারি থেকে তৈরি চারা কিনে আনতে পারেন। আবার বীজ থেকেও নিজের হাতে চারা তৈরি করতে পারেন। তবে গাছ বসানোর আগে টবের মাটি ঠিকভাবে তৈরি করে নিন।
ফুলের গাছের জন্য মাটি প্রস্তুত করতে লাগবে ৫০ শতাংশ দোআঁশ মাটির সঙ্গে ৩০ শতাংশ কম্পোস্ট এবং ২০ শতাংশ কোকো পিট। সবকিছু মিশিয়ে কিছুক্ষণ রোদে শুকিয়ে নিতে পারেন। তারপর টবে চারা বসান। সপ্তাহে ২-৩ দিন সকালে জল দিতে পারেন। মাটি ভেজা থাকলে নতুন করে জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত পরিচর্যা করলে শীতের মরশুমে মিলবে রকমারি ফুলের সৌন্দর্য আর নিজের হাতে ফলানো টাটকা সব্জি।
Leave a comment