চণ্ডীগড়: দিল্লির রামলীলা ময়দানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফার দাবিতে যখন মোদী সরকারকে কোণঠাসা করতে কোমর বাঁধছে বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোট, ঠিক তখনই চণ্ডীগড়ের মাটি থেকে পাল্টা তোপে বিরোধীদের ছাতু করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বিরোধী জোটের আন্দোলনের দিনক্ষণ থেকে শুরু করে মল্লিকার্জুন খড়গের বাংলোয় আয়োজিত ‘প্রতীকী সংসদ’, সবটা নিয়েই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নজিরবিহীন ভাষায় বিঁধলেন শাহ। একহাত নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “আপনি যদি প্রধানমন্ত্রী হতে চান, তবে সারা জীবন এই ছদ্ম সংসদেই পড়ে থাকুন। দেশের আমজনতা আপনাকে সেই সুযোগ আর কখনওই দেবে না।”
আরও পড়ুন: জেলে যাবেন জ্ঞানেশ! হুঙ্কার রাহুলের, তাঁর নেত্রী সনিয়া, রামলীলায় ইঙ্গিত মমতার!
রবিবার চণ্ডীগড়ে এক সুবিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, যে দিনে দিল্লির রাজপথে বিরোধীরা নিজেদের সমাবেশ করছে, সেটি আসলে চার দশক আগের ১৯৮৪ সালের ভয়াবহ শিখবিরোধী হিংসার রক্তঝরা কালো দিন।
সেই অভিশপ্ত দিনের ক্ষত স্মরণ করিয়ে শাহ তোপ দাগেন, ১৯৮৪ সালের এমন এক ‘গণহত্যার কালো দিনে’ উৎসবের মেজাজে রামলীলা ময়দানে জমায়েত করা আসলে ‘কংগ্রেসের জলসা’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, “গত ১৫ বছর ধরে নির্বাচনে হেরে হেরে কংগ্রেসের অবস্থা করুণ। সোনিয়াজির স্বপ্ন তাঁর ছেলেকে প্রধানমন্ত্রী করার, কিন্তু দেশের মানুষ বারবার সেই স্বপ্ন চুরমার করে দিচ্ছে। তাই এবার না জিততে পেরে নতুন রাস্তা ধরেছেন, ছদ্ম সংসদ বসাচ্ছেন! রাহুলজিকে বলি, আপনি সারা জীবন ছদ্ম সংসদেই কাটিয়ে দিন, আপনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারের সুযোগ কখনওই আসবে না।”
উল্লেখ্য, শনিবারই রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গের দিল্লির বাংলোয় একটি প্রতীকী সংসদ বসিয়ে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘প্রতীকী ইমপিচমেন্ট’ প্রস্তাব পাশ করিয়েছিল বিরোধীরা। সেই বিষয়টিকেই কড়া ভাষায় আক্রমণ করে পদ্ম-শিবির।
শাহের আগে শনিবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সুর বেঁধে দিয়ে বলেছিলেন যে বিরোধীরা ‘দেশভাগ করার লক্ষ্যে একজোট’ হয়েছে। রবিবার চণ্ডীগড় থেকে সেই সুর আরও চড়িয়ে শাহ বলেন, “মিথ্যা বলা, দেশে অশান্তি সৃষ্টি করা আর লোকসভাকে স্তব্ধ করে রাখাই এখন কংগ্রেস ও তাদের শরিকদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।”
এদিকে, রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের এই মহাজোটের পাল্টা হিসেবে রবিবাসরীয় সকালে দেশজুড়ে ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচিতে নেমেছে বিজেপি। হরিয়ানার রোহতকে এই প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, আর হিমাচল প্রদেশের শিমলায় মিছিল সামলান অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। অন্যদিকে, দিল্লির হরিনগরে রাস্তায় নামেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত এবং দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মলহোত্রা।
দিল্লির পাল্টা মিছিল থেকেও হরদীপ পুরী ও রেখা গুপ্তরা একযোগে আক্রমণ শানান বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে। ১৯৮৪ সালের ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের পর যে হাজার হাজার নির্দোষ শিখকে হত্যা করা হয়েছিল, সেই ‘গণহত্যার’ জন্য কংগ্রেসকে অবিলম্বে দেশের মানুষের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন বিজেপি নেতৃত্ব। সব মিলিয়ে, একদিকে দিল্লির রামলীলা ময়দান আর অন্যদিকে চণ্ডীগড় থেকে অমিত শাহের এই চোখা তোপ, রবিবারের জাতীয় রাজনীতি কার্যত রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করল।
Leave a comment