মিনাখাঁ: বাংলার মাটিতে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে যখন একের পর এক প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁ থানা এলাকায় ঘটল এক নৃশংস গণধর্ষণের ঘটনা। পূর্ব পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে এক তরুণীকে কৌশলে একটি নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে গিয়ে দুই যুবক মিলে তাঁর ওপর পাশবিক অত্যাচার চালায় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রবিবার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। নির্যাতিতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ অভিযুক্ত দুই যুবককে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে। ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা তরুণী দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানা এলাকার বাসিন্দা। বসিরহাটের মিনাখাঁ এলাকার দুই যুবকের সঙ্গে তাঁর আগে থেকেই পরিচয় ছিল। সেই পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরেই অভিযুক্তরা ওই তরুণীকে মিনাখাঁ এলাকার একটি গোপন আস্তানা বা নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। সেখানে তাঁকে ভয় দেখিয়ে এবং জোরপূর্বক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এই জঘন্য ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও তরুণী সাহসিকতা দেখিয়ে মিনাখাঁ থানায় গিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরেই তৎপর হয় পুলিশ। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই যুবককে পাকড়াও করে। রবিবার ধৃতদের বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে, ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: বদলের বাংলায় রেকর্ড দীপাবলি! ১,১১,১১১ প্রদীপে সাজবে নিউটাউন, মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে বড় চমক!
উল্লেখ্য, এই ঘটনার ঠিক আগেই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে। গত ২৫ অক্টোবর গাইঘাটায় এক কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত ও বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার ঘিরে গোটা রাজ্য কেঁপে উঠেছিল। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রহ্লাদ দাস নামের এক আত্মীয়কে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এমনকি অপরাধের পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের রিভলভার কেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় পুলিশের গুলিতে সেই অভিযুক্তের মৃত্যু পর্যন্ত হয়। গাইঘাটার সেই ভয়াবহ স্মৃতি কাটতে না কাটতেই মিনাখাঁয় ফের এই ধরনের পাশবিক কাণ্ডে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Leave a comment