উত্তরাখণ্ড: দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং ঘন মেঘের চাদরে ঢাকা পাহাড়ি রাস্তায় ফের নেমে এলো এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি! উত্তরাখণ্ডের বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্র বদ্রীনাথ থেকে যাত্রীদের নিয়ে ফেরার পথে মর্মান্তিকভাবে ভেঙে পড়ল একটি যাত্রিবাহী হেলিকপ্টার। চমোলি জেলার জোশীমঠ এলাকায় দুর্যোগের চরম পরিস্থিতির মাঝে আচমকাই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ও ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে উধাও হয়ে যায় ‘ট্রান্স ভারত অ্যাভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেড’-এর কপ্টারটি। পরে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামি স্বয়ং নিশ্চিত করেন যে, কপ্টারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পাইলট সহ মোট ছয় জন আরোহীর প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, দুর্ঘটনাগ্রস্ত হেলিকপ্টারটিতে পাঁচ জন যাত্রী এবং এক জন অভিজ্ঞ পাইলট সওয়ার ছিলেন। দুপুর ১টা ১৪ মিনিট নাগাদ বদ্রীনাথ থেকে জোশীমঠের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল কপ্টারটি। কিন্তু জোশীমঠ উপত্যকার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং অত্যধিক কম দৃশ্যমানতার কারণে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে কপ্টারটি। জোশীমঠ এলাকার হাথি পর্বতের পিছনে চায়ি গ্রামের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কপ্টারটি ভেঙে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে। ঘটনা সামনে আসতেই তড়িঘড়ি উদ্ধারে নেমেছে সেনাবাহিনী, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশ এবং স্বাস্থ্য দফতর। তবে দুর্গম পাহাড়ি পথ এবং অবিরাম বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজে চরম বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের।
উল্লেখ্য, উত্তরাখণ্ডে সাম্প্রতিক সময়ে খারাপ আবহাওয়ার কারণে কপ্টার যাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে বারবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হচ্ছে। মাত্র কিছুদিন আগেই রুদ্রপ্রয়াগ ও তেহরিতে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে দুটি যাত্রিবাহী হেলিকপ্টারকে চরম ঝুঁকিপূর্ণভাবে জরুরি অবতরণ করাতে হয়েছিল। ঘনঘন আবহাওয়া পরিবর্তন এবং পাহাড়ে দৃশ্যমানতা আচমকা কমে যাওয়ার ফলে কীভাবে একের পর এক কপ্টার বিপদের মুখে পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই মুহূর্তে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে দুর্ঘটনাগ্রস্তদের সন্ধান চালানোই মূল লক্ষ্য প্রশাসনের।
Leave a comment