হাসনাবাদ: মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য শৌচালয়ে গিয়েছিলেন মা, আর সেই সুযোগেই ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। ঘুমন্ত অবস্থায় বিছানা থেকে গায়েব হয়ে গেল দু’মাসের একরত্তি শিশু, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার হলো তার নিথর দেহ। উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ থানার ভেবিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বোলদেপোতা এলাকায় এই নৃশংস ও পৈশাচিক ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। কোলের সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা, অন্যদিকে এই ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং ঠান্ডা মাথার সুপরিকল্পিত খুন বলেই দাবি করছে পরিবার।
দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে পুজো ও প্রার্থনা শিশির অধিকারীর
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় বারান্দার একটি খাটে দু’মাসের ঘুমন্ত শিশুকে শুইয়ে রেখে সামান্য সময়ের জন্য শৌচালয়ে যান তার মা। কিন্তু ফিরে আসতেই তাঁর চোখ কপালে ওঠে। তিনি দেখেন, বারান্দার বন্ধ গেটটি হাট করে খোলা এবং বিছানা সম্পূর্ণ ফাঁকা। সন্তানকে না পেয়ে স্বভাবতই চিৎকার শুরু করেন তিনি। তাঁর চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং চারিদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত বোলদেপোতা এলাকায় পৌঁছায় হাসনাবাদ থানার পুলিশ। এরপর বেশ কিছুক্ষণ তল্লাশি চালানোর পর বাড়ির ঠিক পাশের একটি পুকুরে শিশুটির দেহ ভাসতে দেখা যায়। তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে টাকি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সন্তানহারা মায়ের আকুল প্রশ্ন, যে শিশুটি এখনও ঠিকমতো হামাগুড়ি দিতে বা পাশ ফিরতে শেখে নি, সে নিজে থেকে কীভাবে পুকুরে যাবে? তিনি জানান, বাচ্চাটিকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে বাথরুমে যাওয়ার পরই এই কাণ্ড ঘটেছে। জানা গিয়েছে, শিশুটির বাবা কর্মসূত্রে বাড়ির বাইরে থাকেন, ফলে রবিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে কেবল মা-ই একা ছিলেন। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই যে কোনো পরিচিত বা অপরিচিত দুষ্কৃতী ঘরে ঢুকে শিশুটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে পুকুরে ফেলে দিয়েছে, তা নিয়ে প্রায় নিশ্চিত পরিবারের সদস্যরা। তবে কী কারণে এমন একটা নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করা হলো, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। সোমবার বসিরহাট জেলা হাসপাতালের পুলিশ মর্গে দেহটির ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ ও রহস্যের জট খুলবে।

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন