কলকাতা: বিলাসবহুল লাইফস্টাইল, কোটি কোটি টাকার বিদেশি গাড়ি আর বলিউডের তারকাদের সঙ্গে ওঠা-বসা— কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর শাম্স ইকবালের ‘বর্ণময়’ জীবন নিয়ে চর্চার শেষ নেই। তোলাবাজির অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করলেও মাত্র ছ’ঘণ্টার মধ্যে ১০০০ টাকার বন্ডে জামিন পেয়ে ফের শিরোনামে চলে এলেন গার্ডেনরিচের এই দাপুটে নেতা। আর তাঁর এই নাটকীয় গ্রেফতারি ও দ্রুত মুক্তিকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুরসভা থেকে শুরু করে নবান্ন— সর্বত্রই এখন ফিসফাস শুরু হয়েছে।
কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর শাম্স ইকবাল রাজ্যের প্রাক্তন মেয়র তথা হেভিওয়েট মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত, যাকে তিনি পারিবারিক সূত্রে ‘ববি আঙ্কল’ বলে সম্বোধন করতেন। সমাজমাধ্যমে ববি হাকিম ও তাঁর পরিবারের সাথে শাম্সের একাধিক ছবিও রয়েছে। সাধারণ একজন কাউন্সিলর হয়েও শাম্সের রাজকীয় জীবনযাপন সবসময়ই চর্চায় থাকত।
একবার কোটি টাকার লাল রঙের চোখধাঁধানো বিলাসবহুল ‘অ্যাস্টন মার্টিন’ গাড়ি নিয়ে তিনি পুরসভায় হাজির হলে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। গাড়িটি দেখতে খোদ কাউন্সিলর ও পুরকর্মীরা ভিড় জমিয়েছিলেন। ২০২১ সালের পুরভোটে ৯৮ শতাংশ রেকর্ড ভোট পেয়ে জেতা শাম্স নির্বাচন হলফনামায় নিজের অস্থাবর সম্পত্তি মাত্র ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা দেখালেও তাঁর স্ত্রীর নামে ৪৭ লক্ষ টাকার মার্সিডিজ গাড়ির উল্লেখ ছিল। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, শাম্সের গ্যারেজে ৫ কোটি টাকার ‘বেন্টলি’ গাড়িও রয়েছে।
শাম্স ইকবালের এই বিপুল সাম্রাজ্য ও বিলাসিতার নেপথ্যে রয়েছে বেআইনি নির্মাণ ও তোলাবাজির এক বিশাল সিন্ডিকেট, এমনটাই অভিযোগ বিরোধীদের। ২০২৪ সালে গার্ডেনরিচে যে বেআইনি বহুতল ভেঙে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল, তা ছিল এই শাম্সেরই ওয়ার্ডে এবং সেই ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রোমোটার ওয়াসিমের সাথেও তাঁর ছবি ভাইরাল হয়েছিল। সম্প্রতি তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনাতেও ভারতীয় জনতা মজদুর দলের এক নেতার অভিযোগের ভিত্তিতে শাম্সের নামে মামলা হয়।
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে জঙ্গিপুর পৌরসভায় বিক্ষোভ অস্থায়ী কর্মীদের
অতীতে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী শাম্সকে ‘বেআইনি নির্মাণের বেতাজ বাদশা’ বলে কটাক্ষ করে মানুষের জীবনের বিনিময়ে এই জমকালো জীবন গড়ে তোলার অভিযোগ করেছিলেন। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই শুভেন্দুরই পা ছুঁয়ে শাম্সের প্রণাম করার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে তুমুল শোরগোল ফেলে দেয়। শুধু তাই নয়, শাম্সের বাবা মুন্না ইকবালের বিরুদ্ধেও অতীতে এক সাব-ইনস্পেক্টর হত্যা মামলা এবং ওয়াজিদ আলি শাহের বংশধর আসিফ আলি মির্জার জমি জোর করে লিখিয়ে নেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন