Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ঋতব্রত শিবিরে চরম বিদ্রোহ! ওয়াক-আউটের মাঝেও শুভেন্দুর ঘরে কাজল-বায়রনরা, তবে কি ভাঙছে দল?

ঋতব্রত শিবিরে চরম বিদ্রোহ! ওয়াক-আউটের মাঝেও শুভেন্দুর ঘরে কাজল-বায়রনরা, তবে কি ভাঙছে দল?
ছবি সংগৃহীত

কলকাতা: ওবিসি (OBC) বিলের সংশোধনী নিয়ে ভোটাভুটি ঘিরে সোমবার এক অভূতপূর্ব এবং নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। বিল পাশের সময় যখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রায় সমস্ত বিধায়কই একযোগে অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াক-আউট করছিলেন, ঠিক তখনই উল্টো ছবি ধরা পড়ল বেশ কয়েকজন বিধায়কের আচরণে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে— তবে কি ঋতব্রত শিবিরে এবার বড়সড় ফাটল ধরতে চলেছে?


এদিন বিল পাশের সময় ভোটাভুটি শুরু হতেই নিয়মানুযায়ী বিধানসভার সবকটি দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। যার জেরে শিউলি সাহা কিংবা সন্দীপন সাহার মতো ঋতব্রত শিবিরের কয়েকজন বিধায়ক কক্ষের ভেতরেই আটকে পড়েন। পরবর্তীতে পরিষদীয় মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দরজা খোলা হলেও তৈরি হয় আসল নাটক। দেখা যায়, দরজা খোলার পরেও তৃণমূল কংগ্রেসের মোসারফ হোসেন, বীরভূমের বাহারুল ইসলাম, কাজল শেখ, বায়রন বিশ্বাস ও পান্নালাল হালদারদের মতো হেভিওয়েট বিধায়করা কক্ষ থেকে বেরোননি। তাঁরা প্রত্যেকেই ঋতব্রত শিবিরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। এই পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে তাঁদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “আপনারা বেরোবেন না, আপনারা এটাই ঠিক করেছেন।”


আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তীতে বিধানসভায় শ্রদ্ধার্ঘ্য


কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যের পরই বিধানসভার ভেতরের রাজনৈতিক সমীকরণ এক লহমায় বদলে যায়। ওয়াক-আউট না করে ঘরের ভেতরে বসে থাকার পাশাপাশি কাজল শেখ, বাহারুল ইসলাম ও বায়রন বিশ্বাসদের সোজা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায় এবং তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথাও বলেন। 


অন্যদিকে, তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বা বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো প্রবীণ বিধায়করাও তখন কক্ষেই উপস্থিত ছিলেন। এই গোটা পর্বের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে এখন বড় প্রশ্ন— কেবল দরজা বন্ধ থাকার অজুহাতেই কি তাঁরা আটকে পড়েছিলেন, নাকি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তাঁরা ইচ্ছে করেই বেরোতে চাননি? শেষ পর্যন্ত ওবিসি বিলের পক্ষে ১৮৬টি এবং বিপক্ষে ১৭টি ভোট পড়ে, যেখানে ৬ জন ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। তবে ভোটের ফলের চেয়েও ঋতব্রত শিবিরের অন্দরের এই চোরাস্রোত ও ফাটলের জল্পনাই এখন বঙ্গ রাজনীতিকে সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত করে তুলেছে।

বিষয় : WestBengalPolitics SuvenduAdhikari PoliticalCrisis assemblydrama RitabrataBanerjee

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬


ঋতব্রত শিবিরে চরম বিদ্রোহ! ওয়াক-আউটের মাঝেও শুভেন্দুর ঘরে কাজল-বায়রনরা, তবে কি ভাঙছে দল?

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image
কলকাতা: ওবিসি (OBC) বিলের সংশোধনী নিয়ে ভোটাভুটি ঘিরে সোমবার এক অভূতপূর্ব এবং নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। বিল পাশের সময় যখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রায় সমস্ত বিধায়কই একযোগে অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াক-আউট করছিলেন, ঠিক তখনই উল্টো ছবি ধরা পড়ল বেশ কয়েকজন বিধায়কের আচরণে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে— তবে কি ঋতব্রত শিবিরে এবার বড়সড় ফাটল ধরতে চলেছে?এদিন বিল পাশের সময় ভোটাভুটি শুরু হতেই নিয়মানুযায়ী বিধানসভার সবকটি দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। যার জেরে শিউলি সাহা কিংবা সন্দীপন সাহার মতো ঋতব্রত শিবিরের কয়েকজন বিধায়ক কক্ষের ভেতরেই আটকে পড়েন। পরবর্তীতে পরিষদীয় মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দরজা খোলা হলেও তৈরি হয় আসল নাটক। দেখা যায়, দরজা খোলার পরেও তৃণমূল কংগ্রেসের মোসারফ হোসেন, বীরভূমের বাহারুল ইসলাম, কাজল শেখ, বায়রন বিশ্বাস ও পান্নালাল হালদারদের মতো হেভিওয়েট বিধায়করা কক্ষ থেকে বেরোননি। তাঁরা প্রত্যেকেই ঋতব্রত শিবিরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। এই পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে তাঁদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “আপনারা বেরোবেন না, আপনারা এটাই ঠিক করেছেন।”আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তীতে বিধানসভায় শ্রদ্ধার্ঘ্য কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যের পরই বিধানসভার ভেতরের রাজনৈতিক সমীকরণ এক লহমায় বদলে যায়। ওয়াক-আউট না করে ঘরের ভেতরে বসে থাকার পাশাপাশি কাজল শেখ, বাহারুল ইসলাম ও বায়রন বিশ্বাসদের সোজা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায় এবং তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথাও বলেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বা বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো প্রবীণ বিধায়করাও তখন কক্ষেই উপস্থিত ছিলেন। এই গোটা পর্বের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে এখন বড় প্রশ্ন— কেবল দরজা বন্ধ থাকার অজুহাতেই কি তাঁরা আটকে পড়েছিলেন, নাকি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তাঁরা ইচ্ছে করেই বেরোতে চাননি? শেষ পর্যন্ত ওবিসি বিলের পক্ষে ১৮৬টি এবং বিপক্ষে ১৭টি ভোট পড়ে, যেখানে ৬ জন ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। তবে ভোটের ফলের চেয়েও ঋতব্রত শিবিরের অন্দরের এই চোরাস্রোত ও ফাটলের জল্পনাই এখন বঙ্গ রাজনীতিকে সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত করে তুলেছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার